জরুরি তথ্য

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন ২০২৬

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত হবেন না। সঠিক ধাপ অনুসরণ করলে দ্রুত নতুন পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। দেশে ও বিদেশে কী করবেন তা এখানে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

সতর্কতা: হারানো পাসপোর্ট পাওয়ার পরে ব্যবহার করবেন না। এটি আইনত বাতিল বলে গণ্য হয়। নতুন পাসপোর্টের আবেদনের পর পুরনোটি পেলেও জমা দিতে হবে।

প্রথমেই যা করতে হবে

১

থানায় GD (General Diary) করুন

পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি নিকটতম থানায় GD করুন। এটি আবেদনের জন্য অপরিহার্য। GD করার সময় পাসপোর্ট নম্বর, হারানোর স্থান ও তারিখ উল্লেখ করুন।

GD নম্বর ও সনদ সংরক্ষণ করুন — পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।
২

পাসপোর্ট অফিসকে অবহিত করুন (ঐচ্ছিক কিন্তু পরামর্শযোগ্য)

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হেল্পলাইনে ফোন করে পাসপোর্ট নম্বর জানিয়ে হারানোর বিষয়টি নথিভুক্ত করতে পারেন, যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে।

৩

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ শুরু করুন

NID, জন্ম নিবন্ধন, পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে) এবং GD সনদ একত্রিত করুন।

GD কোথায় করবেন

GD সংক্রান্ত তথ্য

কোথায়
নিকটতম থানায়
কীভাবে
থানায় গিয়ে সরাসরি
ফি
বিনামূল্যে
সময়
সাধারণত ১ দিনের মধ্যে

GD-তে যা উল্লেখ করতে হবে

আপনার পুরো নাম, পাসপোর্ট নম্বর (মনে থাকলে), পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, হারানোর আনুমানিক স্থান ও তারিখ এবং বর্তমান ঠিকানা।

GD সনদের প্রয়োজন কোথায়

পাসপোর্ট অফিসে আবেদনের সময় GD সনদের মূল কপি এবং ফটোকপি উভয়ই জমা দিতে হবে।

নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন

১

epassport.gov.bd-তে লগইন করুন

পুরনো অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। "Renew/Reissue Passport" নির্বাচন করুন এবং কারণ হিসেবে "Lost Passport" বেছে নিন।

২

ফর্মে তথ্য পূরণ করুন

হারানো পাসপোর্টের নম্বর ও ইস্যুর তারিখ পূরণ করুন। GD নম্বর ও থানার নাম উল্লেখ করুন।

পাসপোর্ট নম্বর না জানলে পাসপোর্টের ফটোকপি দেখুন। না থাকলে পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
৩

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ফি পরিশোধ

নিকটতম পাসপোর্ট অফিসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। হারানো পাসপোর্টে অতিরিক্ত জরিমানা ফি প্রযোজ্য (নিচে দেখুন)।

৪

পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন

GD সনদ, NID, জন্ম নিবন্ধন এবং অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে যান। বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করুন।

৫

পুলিশ তদন্ত ও ভেরিফিকেশন

হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ বিশেষ যাচাই করতে পারে। বাসায় থাকুন এবং সহযোগিতা করুন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

GD সনদ (থানা থেকে)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। মূল কপি ও একটি ফটোকপি নিয়ে যান।

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

মূল NID এবং উভয় পাশের ফটোকপি।

জন্ম নিবন্ধন সনদ

অনলাইনে প্রাপ্ত ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রিন্ট কপি।

পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি

হারানো পাসপোর্টের বায়োডেটা পেজের ফটোকপি — যদি আগে থেকে তোলা থাকে। না থাকলেও আবেদন করা যায়।

এফিডেভিট / হলফনামা

নোটারি পাবলিক থেকে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়ে স্বাক্ষরিত হলফনামা — কিছু অফিসে প্রয়োজন হতে পারে।

পাসপোর্ট সাইজ ছবি

সাম্প্রতিক তোলা ৪ কপি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি।

ফি — হারানো পাসপোর্টে অতিরিক্ত চার্জ

গুরুত্বপূর্ণ: হারানো পাসপোর্টে পুনরায় আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফি-র সাথে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হয়।
ডেলিভারি ধরন সাধারণ ফি হারানো জরিমানা মোট ফি
সাধারণ (৪৮ পৃষ্ঠা) ৪,০২৫ টাকা + ৩,৪৫০ টাকা ৭,৪৭৫ টাকা
এক্সপ্রেস (৪৮ পৃষ্ঠা) ৬,৩২৫ টাকা + ৩,৪৫০ টাকা ৯,৭৭৫ টাকা
সাধারণ (৬৪ পৃষ্ঠা) ৬,৩২৫ টাকা + ৩,৪৫০ টাকা ৯,৭৭৫ টাকা
জরিমানার পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ ফি নিশ্চিত করতে epassport.gov.bd দেখুন।

জরুরি পরিস্থিতি: বিদেশে থাকলে কী করবেন

বিদেশে পাসপোর্ট হারালে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

১. স্থানীয় পুলিশে রিপোর্ট করুন
যে দেশে আছেন সেখানকার পুলিশ স্টেশনে হারানোর রিপোর্ট করুন এবং রিপোর্টের কপি নিন।
২. বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন
অবিলম্বে নিকটতম বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে যান। তারা "Emergency Travel Document" বা জরুরি পাসপোর্ট দিতে পারে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিন
NID-এর কপি, ছবি, পুরনো পাসপোর্টের কপি (ফোনে ফটো থাকলেও কাজ হতে পারে) এবং স্থানীয় পুলিশ রিপোর্ট নিন।
৪. দেশে ফেরার পর পুনরায় আবেদন করুন
জরুরি ট্রাভেল ডকুমেন্টে দেশে ফিরে স্থায়ী পাসপোর্টের জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করুন।
বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের নম্বর পেতে: mofa.gov.bd দেখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

পাসপোর্ট হারানোর সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে কেউ পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রতারণা করতে পারে বলে দ্রুত GD করে নথিভুক্ত করুন এবং ব্যাংককে জানান।
না। GD করার পর পুরনো পাসপোর্টটি আইনগতভাবে বাতিল বলে গণ্য। নতুন পাসপোর্ট পেলে পুরনোটি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে বা নষ্ট করে দিতে হবে।
পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন এবং NID নম্বর দিয়ে রেকর্ড অনুসন্ধান করুন। পাসপোর্টের পুরনো কোনো ফটোকপি বা ভিসার কপি থাকলে সেখান থেকেও নম্বর পাওয়া যেতে পারে।
পাসপোর্ট বাতিল হলে সেই ভিসাও কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করুন — কিছু দেশ নতুন পাসপোর্টে ভিসা ট্রান্সফার করে। অন্যথায় পুনরায় ভিসার আবেদন করতে হতে পারে।