কে ভোটার হতে পারবেন?

বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী নিচের শর্তগুলো পূরণ হলে যে কোনো ব্যক্তি ভোটার হতে পারবেন:

ভোটার হতে পারবেন যদি

  • বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি
  • বাংলাদেশের নাগরিক
  • স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা বাংলাদেশে
  • মানসিকভাবে সুস্থ
  • ইতিমধ্যে কোনো নির্বাচনী এলাকায় নাম নেই

ভোটার হতে পারবেন না যদি

  • বয়স ১৮ বছরের কম
  • বিদেশি নাগরিক (দ্বৈত নাগরিকসহ)
  • আদালত কর্তৃক মানসিক অসুস্থ ঘোষিত
  • রাষ্ট্রদ্রোহিতায় দোষী সাব্যস্ত
  • ইতিমধ্যে ভোটার তালিকায় নাম আছে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যারা প্রবাসে আছেন কিন্তু বাংলাদেশি নাগরিক, তারাও ভোটার হতে পারবেন — স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশে থাকলে। তবে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়।

নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা

নির্বাচন কমিশন প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাধারণ সময়রেখা:

জানুয়ারি–মার্চ বার্ষিক

নতুন ভোটার নিবন্ধনের মূল সময়। এই সময়ে উপজেলা নির্বাচন অফিস বিশেষ ক্যাম্প পরিচালনা করে।

সারা বছর অনলাইন আবেদন

অনলাইনে যেকোনো সময় আবেদন করা যায়, তবে বায়োমেট্রিক দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবন্ধন

জাতীয় নির্বাচনের ৩–৬ মাস আগে বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্প পরিচালিত হয়। এই সময়ে আবেদন ও কার্ড পাওয়ার গতি বেশি থাকে।

সতর্কতা: নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে আবেদন করলে সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। আগেভাগে নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে আবেদন (services.nidw.gov.bd)

নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. পোর্টালে প্রবেশ

    services.nidw.gov.bd-এ গিয়ে "নতুন ভোটার নিবন্ধন" বা "ভোটার হোন" বাটনে ক্লিক করুন।

  2. জন্ম নিবন্ধন যাচাই

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে পরিচয় যাচাই করুন। জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে থাকা বাধ্যতামূলক।

  3. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ

    নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা-মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সাবধানে পূরণ করুন।

  4. কাগজপত্র আপলোড

    জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ ও প্রয়োজনীয় ছবির স্ক্যান কপি আপলোড করুন।

  5. আবেদন সাবমিট

    সকল তথ্য পর্যালোচনা করে আবেদন জমা দিন। একটি আবেদন ফর্ম নম্বর (Form No.) পাবেন — এটি সংরক্ষণ করুন।

  6. নির্ধারিত তারিখে অফিসে যান

    SMS বা অনলাইনে জানানো তারিখে নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে মূল কাগজপত্রসহ যান।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সকলের জন্য বাধ্যতামূলক

আবশ্যক
  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (ডিজিটাল, সত্যায়িত কপি)
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ২ কপি)
  • পিতামাতার NID কার্ডের কপি
  • ঠিকানার প্রমাণ (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার সনদ)

শিক্ষার্থীদের জন্য

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
  • এসএসসি বা জেএসসি সনদ বা মার্কশিট
  • বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র
  • ছাত্রত্বের প্রমাণপত্র (আইডি কার্ড)

চাকরিজীবীদের জন্য

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
  • নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র
  • অফিস আইডি কার্ড
  • শিক্ষাগত সনদ

বায়োমেট্রিক দেওয়ার প্রক্রিয়া

অনলাইনে আবেদনের পর উপজেলা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক এবং একবারই করতে হয়।

১০ আঙুলের ছাপ

উভয় হাতের ১০টি আঙুলের ডিজিটাল ছাপ নেওয়া হয়

আইরিশ স্ক্যান

চোখের রেটিনার অনন্য প্যাটার্ন ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হয়

ডিজিটাল ছবি

সশরীরে উপস্থিত হলে অফিসেই সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি তোলা হয়

মনে রাখুন: বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন পরিষ্কার হাত রাখুন। আঙুলে কাটা বা ক্ষতের কারণে সমস্যা হলে অফিসারকে জানান — তারা বিকল্প পদ্ধতিতে নেবেন।

NID পাওয়ার আগে অনলাইন কপি ব্যবহার

বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরপরই একটি আবেদন স্লিপ পাওয়া যায়। ফিজিক্যাল স্মার্টকার্ড আসার আগেই অনলাইনে NID-এর ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা সম্ভব।

১

services.nidw.gov.bd-এ যান এবং আবেদন ফর্ম নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।

২

নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে OTP আসবে — তা দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করুন।

৩

ড্যাশবোর্ড থেকে "NID কপি ডাউনলোড" বাটনে ক্লিক করে PDF ডাউনলোড করুন।

৪

এই অনলাইন কপি ব্যাংক, সিম ও বেশিরভাগ সেবায় গ্রহণযোগ্য। এটি প্রিন্ট করে বা মোবাইলে দেখিয়ে ব্যবহার করা যায়।

৫

স্মার্টকার্ড প্রস্তুত হলে SMS পাবেন — তখন উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার কতদিনের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন করতে হবে?
বাংলাদেশে ভোটার নিবন্ধনের কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা নেই। যেকোনো সময় আবেদন করা যায়, তবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই নিবন্ধন করতে হবে।
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কী করবো?
প্রথমে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করুন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় যোগাযোগ করলে সাহায্য পাবেন। পুরনো কাগজ জন্ম নিবন্ধন থাকলে সেটি দিয়ে অনলাইনে রূপান্তর করা যায়।
বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর কত দিনে স্মার্টকার্ড পাবো?
সাধারণত বায়োমেট্রিক দেওয়ার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে স্মার্টকার্ড প্রস্তুত হয়। তবে কার্ড না আসলেও অনলাইনে NID কপি ডাউনলোড করে বেশিরভাগ কাজ করা সম্ভব।
এসএসসি পাশ না করলে কি ভোটার হওয়া যাবে?
হ্যাঁ, ভোটার হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু বয়স ১৮ বছর ও বাংলাদেশের নাগরিক হলেই ভোটার হওয়া যাবে। শিক্ষাগত সনদ না থাকলে জন্ম নিবন্ধন ও অন্য প্রমাণ দিয়ে আবেদন করা যায়।
ভোটার নিবন্ধনে কোনো ফি দিতে হয়?
না। প্রথমবার ভোটার নিবন্ধন এবং প্রথম স্মার্টকার্ড পাওয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু হারানো বা নষ্ট কার্ড পুনর্মুদ্রণে ফি প্রযোজ্য হয়। কেউ ফি চাইলে অভিযোগ করুন।