কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়?

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী NID কার্ডে নিচের তথ্যগুলো সংশোধন করা যায়। তবে প্রতিটি সংশোধনের জন্য যথাযথ প্রমাণ দলিল আবশ্যক:

নিজের নাম

বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সংশোধন

পিতা-মাতার নাম

বাবা ও মায়ের নামের সংশোধন

জন্ম তারিখ

জন্ম তারিখের সংশোধন (সীমিত)

ঠিকানা

স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন

ছবি পরিবর্তন

সম্প্রতি তোলা ছবি দিয়ে প্রতিস্থাপন

রক্তের গ্রুপ

সঠিক রক্তের গ্রুপ আপডেট করা

লক্ষ্যণীয়: NID নম্বর কখনো পরিবর্তন করা যায় না। পুরুষাঙ্গ (লিঙ্গ) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

নাম সংশোধন (নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম)

নামের সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ বা সরকারি দলিলের সাথে মিল রেখে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

নামের সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাধ্যতামূলক
  • এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত কপি (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
  • জন্ম নিবন্ধন সনদ (অনলাইন কপি বা সত্যায়িত কপি)
  • পাসপোর্টের কপি (থাকলে)
  • ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হলফনামা (বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)
  • সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র (চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাবার নাম বা মায়ের নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির NID কার্ডের কপি এবং বাবা/মায়ের মৃত্যু সনদ (মৃত হলে) সংযুক্ত করতে হবে।

জন্ম তারিখ সংশোধন — প্রমাণ হিসেবে কী লাগবে?

জন্ম তারিখ সংশোধন সবচেয়ে কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছরের পার্থক্য পর্যন্ত সংশোধন করে থাকে।

জন্ম তারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় দলিল

কঠোর যাচাই
  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অফিস থেকে যাচাইকৃত)
  • এসএসসি / জেএসসি সনদে উল্লিখিত জন্ম তারিখ সংক্রান্ত কাগজ
  • পাসপোর্টে উল্লিখিত জন্ম তারিখ (থাকলে)
  • হাসপাতালের জন্ম সনদ (যদি থাকে)
  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র
  • ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হলফনামা (অবশ্যই)

গুরুত্বপূর্ণ: জন্ম তারিখ একবারের বেশি সংশোধন করা যায় না। আবেদন করার আগে সকল দলিলে একই জন্ম তারিখ নিশ্চিত করুন।

ঠিকানা পরিবর্তন

বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নতুন বাসস্থানের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন আরো জটিল প্রক্রিয়া।

ঠিকানা পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
  • বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানির বিল (নতুন ঠিকানার প্রমাণ)
  • বাড়িভাড়া চুক্তিপত্র বা খাজনার রশিদ
  • জমির দলিল বা পর্চা (নিজস্ব বাড়ির ক্ষেত্রে)
  • চেয়ারম্যান / কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র

ছবি পরিবর্তন

NID কার্ডে পুরনো বা অস্পষ্ট ছবি পরিবর্তন করতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন। ছবি পরিবর্তনের জন্য অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে কারণ নতুন ছবি সেখানেই তোলা হয়।

  • services.nidw.gov.bd-এ "ছবি পরিবর্তন" আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
  • নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন (বর্তমানে ৩০০ টাকা)
  • উপজেলা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত তারিখে সশরীরে উপস্থিত হন
  • নতুন ছবি ডিজিটালভাবে তোলা হবে এবং সিস্টেমে আপডেট করা হবে
  • নতুন কার্ড তৈরি হলে SMS-এ জানানো হবে

অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি (services.nidw.gov.bd)

সকল ধরনের তথ্য সংশোধন অনলাইনেই আবেদন করা যায়। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. অ্যাকাউন্টে লগিন

    services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে NID নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে লগিন করুন। নতুন হলে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

  2. সংশোধন বিভাগ নির্বাচন

    ড্যাশবোর্ড থেকে "তথ্য সংশোধন" অপশনে যান এবং কোন তথ্য সংশোধন করতে চান তা নির্বাচন করুন।

  3. সঠিক তথ্য লিখুন

    সংশোধিত তথ্য সাবধানে পূরণ করুন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

  4. কাগজপত্র আপলোড

    প্রয়োজনীয় সকল দলিলের স্ক্যান কপি আপলোড করুন (JPG বা PDF ফরম্যাটে, সর্বোচ্চ ২ MB প্রতিটি)।

  5. ফি পরিশোধ

    বিকাশ, নগদ, রকেট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।

  6. আবেদন জমা ও ট্র্যাকিং

    আবেদন সাবমিট করলে একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন। এই নম্বর দিয়ে আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

ফি ও সময়

সংশোধনের ধরনফিসময়
নাম সংশোধন (ছোট পরিবর্তন)৩০০ টাকা১৫–৩০ কার্যদিবস
নাম সংশোধন (বড় পরিবর্তন)৫০০ টাকা৩০–৪৫ কার্যদিবস
জন্ম তারিখ সংশোধন৫০০ টাকা৪৫–৯০ কার্যদিবস
ঠিকানা পরিবর্তন৩০০ টাকা১৫–৩০ কার্যদিবস
ছবি পরিবর্তন৩০০ টাকা১৫–৩০ কার্যদিবস
রক্তের গ্রুপ আপডেট১০০ টাকা৭–১৫ কার্যদিবস

মনে রাখুন: উপরের সময়সীমা আনুমানিক। কাগজপত্রের ঘাটতি বা তদন্তের প্রয়োজনে সময় বাড়তে পারে। আবেদন সাবমিটের পর অনলাইনে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

সংশোধনের আবেদন করার পর কি পুরনো NID ব্যবহার করা যাবে?
হ্যাঁ, আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালীন পুরনো NID কার্ড বৈধ। আবেদনের রেফারেন্স নম্বর সাথে রাখুন প্রয়োজনে দেখানোর জন্য। নতুন কার্ড হাতে পাওয়ার পরে পুরনোটি আর ব্যবহার না করাই ভালো।
আবেদন বাতিল হলে ফি ফেরত পাবো কি?
আবেদন বাতিল হলে সাধারণত ফি ফেরত দেওয়া হয় না। তবে বাতিলের কারণ জানা থাকলে নতুন করে সঠিক কাগজপত্রসহ পুনরায় আবেদন করা যায়। বাতিলের কারণ অনলাইন পোর্টালে দেখানো হয়।
একসাথে কি একাধিক তথ্য সংশোধন করা যায়?
হ্যাঁ, একটি আবেদনেই একাধিক তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করা সম্ভব। তবে প্রতিটি সংশোধনের জন্য আলাদা প্রমাণ দলিল এবং ফি প্রযোজ্য হবে।
সংশোধন আবেদন অনুমোদনের পরে কার্ড কোথা থেকে নেবো?
আবেদন অনুমোদন ও নতুন কার্ড প্রস্তুত হলে SMS-এ জানানো হবে। নির্ধারিত উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে পুরনো কার্ড জমা দিয়ে নতুন কার্ড সংগ্রহ করুন।
বিবাহের পরে কি মায়ের নামের পরিবর্তে স্বামীর নাম দেওয়া যাবে?
না। NID কার্ডে সব সময় জৈবিক মায়ের নামই থাকে। বিবাহের পরে স্বামীর নাম বা পদবি যোগ করতে চাইলে নিজের নামের অংশ হিসেবে যোগ করার জন্য নাম সংশোধন আবেদন করা যায়।