জন্ম নিবন্ধন সনদ — বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের সবচেয়ে মৌলিক পরিচয়পত্র। কিন্তু আবেদনের সময় ছোট ছোট ভুলের কারণে হাজার হাজার মানুষের আবেদন বাতিল হচ্ছে বা বছরের পর বছর আটকে থাকছে। এই লেখায় সবচেয়ে সাধারণ ৭টি ভুল এবং কীভাবে এড়ানো যায় তা বিস্তারিত দেওয়া হলো।
জন্ম নিবন্ধনে বাংলায় "মোহাম্মদ রাফি" লিখলে ইংরেজিতে "Mohammad Rafi" লিখতে হবে — কিন্তু অনেকে "Mohammed Rafy" বা "Md. Rafi" লেখেন। এই অমিলের কারণে পাসপোর্ট ও NID-তে নামের পার্থক্য দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে সংশোধন করা অনেক ঝামেলার।
শিশুর নামের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন — স্কুলে ভর্তির সময় একই নাম আলাদা বানানে দিলে ভবিষ্যতে শিক্ষাসনদে সমস্যা হবে।
অনেকে ইংরেজি ও বাংলা তারিখের পার্থক্য না বুঝে ভুল তারিখ দেন। এছাড়া অনলাইন ফর্মে তারিখের ফরম্যাট (DD/MM/YYYY বনাম MM/DD/YYYY) নিয়ে বিভ্রান্তি সাধারণ। উদাহরণ: ১০ মার্চ = ১০/০৩ — কিন্তু ০৩/১০ মানে ৩ অক্টোবর।
শিশুর জন্ম নিবন্ধনে বাবা ও মায়ের NID নম্বর ও নাম হুবহু NID-এর মতো থাকতে হবে। অনেকে পুরনো ১৩ সংখ্যার NID নম্বর দেন যা এখন ১৭ সংখ্যার হয়েছে, বা নামের সামান্য পার্থক্য রাখেন।
বাবা-মায়ের NID যদি সংশোধিত না হয়ে থাকে এবং তাতে ভুল তথ্য থাকে, তাহলে আগে NID সংশোধন করতে হবে।
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার ক্ষেত্রে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বা সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড ভুল নির্বাচন করা অত্যন্ত সাধারণ। বিশেষত ঢাকা সিটিতে ওয়ার্ড নম্বর সঠিকভাবে না জানলে সমস্যা হয়। আবার "স্থায়ী ঠিকানা" ও "জন্মস্থান" এক নয় — অনেকে এখানে বিভ্রান্তি করেন।
বয়স্ক ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনে (বিশেষত বয়স্কদের প্রথমবার নিবন্ধনে) অনুমানের উপর ভিত্তি করে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়। পরে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশোধন করতে গেলে আদালতের নির্দেশনা লাগতে পারে। এছাড়া বয়স বেশি বা কম দেখানোর উদ্দেশ্যে তথ্য পরিবর্তন একটি আইনি অপরাধ।
BDRIS পোর্টালে নথি আপলোডের ক্ষেত্রে ছবির মান খুব খারাপ হলে, ফাইল সাইজ বেশি হলে বা ভুল ফরম্যাটে (যেমন HEIC বদলে JPEG দরকার) আপলোড করলে আবেদন প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হয়। অনেকে কাগজ ভাঁজ করা অবস্থায় বা হাত দিয়ে ঢেকে ফটো তোলেন।
অনেকে মনে করেন অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেই কাজ শেষ। কিন্তু অনলাইন আবেদন জমার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না গেলে আবেদন বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন করে আবেদন করতে হয়।